ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২
শিরোনাম ::
পরিচালককে ঘুষের টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষককে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শহিদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসির বিশেষ পরিপত্র বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় কুড়িগ্রামে দোয়া ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মেলা উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে দশ টাকার হাসপাতাল উদ্বোধন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ড্যাব”র আলোচনা ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত  কুড়িগ্রামে এনসিপি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন আহ্বায়ক মুকুল, সদস্য সচিব মাসুম কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণে মদ-ইয়াবা আটক কুড়িগ্রামে ট্রাক চাপায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু 

রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, নির্দেশ অমান্য করে বিএনপি-আ’লীগ দুই নেতা মিলে নিয়োগে ব্যস্ত

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র ও অফিস আদেশ অমান্য করে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার কথা থাকলেও কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম মাষ্টার ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খঁানের যোগসাজশে গোপনে নিয়োগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, ল্যাব সহকারী (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটার) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম ও সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খঁান। এই নিয়োগে ১৮ অক্টোবর অংশ গ্রহনের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের ইন্টারভিউ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোমদেল হোসেন অবসরে গেলে সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) সিরাজুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উক্ত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার পরও কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। নীতিমালা বর্হিভূত কাজে অপরাগত প্রকাশ করলে শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গা পূজার ছুটিকালীন সময়ে ওই সভাপতি ও বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ মদদে শিক্ষা নীতিমালা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খাঁনকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইসলামের ইতিহাস) আব্দুল কাদের জ্যেষ্ঠতায় আব্দুস ছামাদ খাঁনের চেয়েও সিনিয়র। তা থাকা সত্ত্বেও নীতিমালা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় আব্দুস ছামাদ খাঁনকে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গভর্ণিং বডির সভাপতি আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগসাজশে আগামী ১৮ অক্টোবরে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যক্রম শেষ করার জন্য চক্রান্ত চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-মন্ডলী, স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম মাষ্টারের ভাষ্য, ‘আমাদের কলেজটি হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। নিয়োগ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য প্রযোজ্য। যা স্নাতক পর্যায়ে কর্মচারী নিয়োগে বাঁধা নেই।’

দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খাঁন বলেন, ‘কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সভাপতি সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখনও দায়িত্ব বুঝে পাইনি।

 

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচালককে ঘুষের টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষককে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, নির্দেশ অমান্য করে বিএনপি-আ’লীগ দুই নেতা মিলে নিয়োগে ব্যস্ত

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র ও অফিস আদেশ অমান্য করে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার কথা থাকলেও কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম মাষ্টার ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খঁানের যোগসাজশে গোপনে নিয়োগের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, ল্যাব সহকারী (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটার) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম ও সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খঁান। এই নিয়োগে ১৮ অক্টোবর অংশ গ্রহনের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের ইন্টারভিউ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোমদেল হোসেন অবসরে গেলে সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) সিরাজুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উক্ত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার পরও কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। নীতিমালা বর্হিভূত কাজে অপরাগত প্রকাশ করলে শুরু হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গা পূজার ছুটিকালীন সময়ে ওই সভাপতি ও বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ মদদে শিক্ষা নীতিমালা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খাঁনকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইসলামের ইতিহাস) আব্দুল কাদের জ্যেষ্ঠতায় আব্দুস ছামাদ খাঁনের চেয়েও সিনিয়র। তা থাকা সত্ত্বেও নীতিমালা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় আব্দুস ছামাদ খাঁনকে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গভর্ণিং বডির সভাপতি আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগসাজশে আগামী ১৮ অক্টোবরে নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যক্রম শেষ করার জন্য চক্রান্ত চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-মন্ডলী, স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম মাষ্টারের ভাষ্য, ‘আমাদের কলেজটি হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। নিয়োগ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য প্রযোজ্য। যা স্নাতক পর্যায়ে কর্মচারী নিয়োগে বাঁধা নেই।’

দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছামাদ খাঁন বলেন, ‘কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সভাপতি সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখনও দায়িত্ব বুঝে পাইনি।