
আল বিদা পবিত্র মাহে রমজান
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির।
রহমত ,মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে আসা মাহে রমজান বিদায়ের পথে। চলছে নাজাতের দশকের শেষ দিনগুলো। রাসূল সা. পুরো রমজান মাসকেই খুব গুরুত্ব দিতেন। এ দশকের কোনো এক বেজোড় রাতে রয়েছে লাইলাতুল ক্বদর যা গত ২৬ রমজান দিন গতি রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে পালিত হয়েছে।
আল্লাহর রাসূল সা. শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রমজানের শেষ দশক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের শেষ দশকের গুরুত্ব নিয়ে প্রসিদ্ধ একটি হাদিস রয়েছে। যা বুখারী, মুসলিম, তিরমিজী, আবু দাউদ, নাসাঈ প্রত্যেকটি হাদিস সংকলনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে ইমাম বুখারী র. তার বুখারী শরীফের ১৮৮২ নম্বর হাদিসে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ রমজানের শেষ দশক শুরু হলেই রাসূল সা. তাঁর কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন। এই সময়ের রাতগুলো জেগে থাকতেন এবং তাঁর ঘরের লোকদের সজাগ করতেন’।
কাজেই আল্লাহর নবী সা. রমজানের শেষ দশ দিনকে যে কতো গুরুত্ব দিতেন তা আমাদের কাছে একেবারে পরিষ্কার। এ দশকে নাজিল হয়েছিল মানবতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ হেদায়েতের মহাগ্রন্থ আল কোরআন। আর যে রাতে তা নাজিল হয়েছিল সে রাতকে ক্বদরের রাত বলা হয়। ক্বদরের রাত
হচ্ছে এ দশকের কোনো এক বেজোড় রাত। তবে, কোন রাত তা স্পষ্ট করা হয়নি। ক্বদরের রাতের মর্যাদা হলো এটি হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে সেরা রাত। কোরআনের কারণেই ক্বদরের রাতের এতো মর্যাদা। কোরআন হচ্ছে নবী কারীম সা. এর সবচেয়ে বড়ো মুজিজা। কোরআন দিয়েই তিনি পুরো অন্ধকারে নিমজ্জিত একটি জাতিকে আলোর দিকে নিয়ে এসেছিলেন। তাই আমাদের উচিত এ দশক কে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা। বিশেষ করে বেশি বেশি করে কোরআনের চর্চা করা। এ দশকে আল্লাহর নবী সা. সবচেয়ে বেশি আল্লাহর ইবাদাত করতেন। হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশকে রাসূল সা. এতো কষ্ট স্বীকার করতেন, যা অন্য সময় করতেন না। সুতরাং রমজানের শেষ দশক গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই নবী সা. এ দশককে এতো গুরুত্ব দিতেন। তাই ,আমাদেরকেও এ দশকে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত-বন্দেগী বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।।
লেখক: গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, ধর্ম ও সমাজ বিশ্লেষক, সাংবাদিক,ধর্মীয় ভাবুক, চেয়ারম্যান- গাউছিয়া ইসলামিক মিশন, কুমিল্লা ও শূরা সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির। 














